বৃহস্পতিবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১ ১৪২৮ ||  ০৮ সফর ১৪৪৩

ACI Agri Business

ইলিশের রাজধানীতে ইলিশের হাহাকার, ইলিশ শূণ্য আড়ৎ

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ৩১ মে ২০২১

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও ইলিশের দেখা নেই মাছের রাজার রাজধানী চাঁদপুরে। পদ্মা-মেঘনা নদীতে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার পর এ মাসের শুরুতে মাছ ধরা শুরু হলেও নদীতে ধরা পড়ছে না তেমন ইলিশ । এদিকে, ২০ মে থেকে সাগরেও ৬৫ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ফলে, প্রায় ইলিশ শূন্য হয়ে পড়েছে চাঁদপুর।

চাঁদপুর শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বড়স্টেশন মাছঘাটে ইলিশ নিয়ে তাই এখন হাকডাক নেই, আছে হাহাকার। তবে মৎস্য বিজ্ঞানীরা এর নানা কারণ উল্লেখ করে এখন ইলিশ কম ধরা পড়ার সময় বলেই মনে করছেন।

নদীতেও ইলিশ নাই, সাগরেও মাছ ধরা বন্ধ। ফলে অলস সময় কাটাচ্ছেন চাঁদপুর মাছ ঘাটের ইলিশ ব্যবসায়ী ও কর্মচারীসহ মৎস্য শ্রমিকরা। চাঁদপুর মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, ইলিশের জন্য ঘাটে অধিকাংশ আড়তদাররা বসে রয়েছেন। আড়তের পাশে বসে কিছু খুচরা ব্যবসায়ী অল্প কিছু ইলিশ বিক্রি করলেও পুরো মাছঘাট ইলিশ শূন্য।

মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মানিক জমাদার বলেন, ‘ইলিশের এখনও পুরোপুরি মৌসুম শুরু হয়নি। তবুও এই সময় ভোলা, বরিশাল ও নোয়াখালীসহ আশেপাশের জেলা থেকে অল্প কিছু ইলিশ আসছে এই বাজারে। এর মধ্যে এবার সাগরের ইলিশ মাত্র চার থেকে পাঁচ দিন পাওয়া গেছে। তবে কয়েকদিন ধরে কোনো ইলিশই আসছে না। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ নেই বললেই চলে।’

খুচরা ও পাইকারি ক্রেতারাও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে ইলিশের ডাল সিজন চলছে। এছাড়া সাগরেও ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। তবে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে প্রথমত পানি নেই। চর পড়ে ইলিশ চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

নদী দূষণ, নদীতে ব্যাপক আকারে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ও খাবার সংকট তৈরি হওয়া ইলিশ কমে যাওয়ার মূল কারণ বলে মনে করেন ড. আনিছ।

Advertisement
Advertisement