সোমবার   ০১ জুন ২০২০ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭ ||  ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

ইউরোপে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের কচু-লতি

কামরুজ্জামান জয়

প্রকাশিত: ০০:১৫, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দেশ ছাড়িয়ে এখন বিদেশেও স্বাদ ছড়িয়ে পড়েছে কিশোরগঞ্জের কচু ও কচুর লতির।  জেলার কুলিয়ারচর উপজেলায় উৎপাদিত কচু ও কচুর লতি রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের যুক্তরাজ্য ও ইতালি এবং সৌদি আরব, কুয়েত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এখানকার কচু ও লতি সুস্বাদু হওয়ায় দেশ-বিদেশে কদর বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর  উৎপাদন খরচ এবং পরিশ্রমের তুলনায় বেশি লাভ পাওয়ায় কচু চাষে আগ্রহও বাড়ছে কৃষকদের। 

দেশের মানুষের কাছে কচু ও লতি একটি সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর সবজি হিসেবে বিবেচিত এবং প্রায় সবজায়গাতেই উৎপাদিত হয় কচু এবং লতি।  তবে মেঘনা- ব্রহ্মপুত্রসহ অসংখ্য নদ-নদী আর খাল-বিলে বিধৌত অঞ্চল হিসেবে কুলিয়ারচরের বেলে-দোআঁশ মাটি কচু চাষের জন্য খুবই উপযোগী হওয়ায় এখানে কচুর ফলন বেশ ভালো হয়।

কৃষকরা জানান, এক বিঘা কচু চাষে তাঁদের খরচ হয় হাজার বিশেক টাকার মতো। যা কচুর লতি বিক্রি করেই ওঠে আসে সেই খরচ। লাভের অংশ হিসেবে প্রতি বিঘা জমির কচু বিক্রি করা যায় ন্যূনতম ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা।

অন্যদিকে সবজিটির প্রচুর চাহিদা থাকায়, জমি থেকে তুলে স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে নেয়া মাত্রই তা বিক্রি হয়ে যায় বলেও জানিয়েছেন কৃষকেরা। দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানকার বাজারগুলো থেকে প্রতিদিন এসে কচু ও লতি কিনে নিয়ে যান।

স্থানীয় এক কৃষক জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে এই কচুর আবাদ করছেন। এই ফসল আবাদ করে কখনও তাঁর লোকসান হয়নি। বর্তমানে তাঁর দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে এই কচু চাষ করায় পুরো এলাকা এখন কচুর গ্রামে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি জানান। 


ব্যবসায়ীরা জানান, এখানকার কচু ও কচুর লতার ব্যাপক চাহিদা থাকায় তাঁরা এখান থেকে কিনে নিয়ে বিক্রি করে নিজেরাও লাভবান হচ্ছেন। প্রতিদিন এখান থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর এবং বিদেশেও যাচ্ছে এই কচু, বলেন তারা।

সবজি রপ্তানিকারক আবুল হোসেন জানান, এখানকার হাট ও কৃষকদের কাছ থেকে কচু ও কচুর লতা কিনে যুক্তরাজ্য, ইতালি এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্যাকেটজাত করে রপ্তানি করেন তিনি। বিদেশে এখানকার কচু এবং কচুর লতির চাহিদা বাড়ছে বলেও জানান এই রপ্তানিকারক।

কুলিয়ারচর কৃষি বিভাগ জানায়, এখানকার মাটি কচু চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই কচুর আবাদ হচ্ছে। এখানে সাদা ও নারকেলি-এই দুই জাতের কচুর আবাদ হয়ে থাকে। চলতি বছর উপজেলায় ৩০৫ হেক্টর জমিতে কচুর আবাদ হয়েছে। কচু চার মাস মেয়াদি সময়ের ফসল হওয়ায়, কচুর ফলন তুলে খুব সহজেই রোপা আমন ধানের চাষাবাদ করতে পারেন স্থানীয় কৃষকরা।

কচু চাষে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষি অফিস। বিষমুক্ত কচু উৎপাদনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদসহ চাষপদ্ধতি সম্পর্কে  কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলে জানান কুলিয়ারচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রুনা আক্তার। তিনি জানান, আগামীতে এ এলাকায় উৎপাদন আরো বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। আর বিদেশী রপ্তানি হওয়ায় কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন বলে জানান এই কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা।