বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১২ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ACI Agri Business

আম্ফানে সুন্দরবনে সোয়া দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি!

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:০৭, ৩১ মে ২০২০

সুপার সাইক্লোন আম্ফানে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলো সুন্দরবন। আইলা, সিডরের মত আম্ফানেও প্রাকৃতিক বর্ম হিসেবে জানমাল রক্ষা করা বিশ্বের এই বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনের নিজেকে মেনে নিতে হয়েছে অনেক ক্ষয়ক্ষতি। যার আর্থক মূল্য বন বিভাগের প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা। 

আম্ফানের তান্ডবে বনের বনের গাছপালাসহ ক্ষতির শিকার হয়েছে বনবিভাগের বিভিন্ন স্থাপনা। তবে বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জলোচ্ছ্বাসে লবণ পানিতে প্লাবিত হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে বন্যপ্রাণীর খাবার সুপেয় পানির উৎস। 

আম্ফানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবনের সাতক্ষীরার অংশে। এরপর খুলনা ও বাগেরহাটের বনাঞ্চলে। বনরক্ষীরা জানান, গোটা সুন্দরবনে ১২ হাজার ৩শ’ গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ। ক্ষতিগ্রস্ত গাছের তালিকায় রয়েছে গরান, কেওড়া, গেওয়া, বাইন, পশুর ও সুন্দরী। এছাড়া বনের অভ্যন্তরের অফিস, আবাসিক স্থাপনা, পন্টুন গ্যাংওয়ে, জেটি ও পুকুরেরও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে বনবিভাগের ব্যবহৃত ১০টি জলযানেরও। পূর্ব সুন্দরবনের করমজলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, সবকিছু মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ঝড়ে বনে ভিতরের গাছপালা ও স্থাপনার খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। ক্ষতি হয়েছে একেবারে নদীর পাড়ের খোলা জায়গার গাছপালা ও স্থাপনাগুলোর। 

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলোচ্ছাসে লবণ পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে বন্যপ্রাণীর সুপেয় পানি খাবার উৎস মিঠা পানির পুকুর। সেই সকল পুকুরের পানি সেচের মাধ্যমে অপসারণ করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বনবিভাগের স্থাপনাগুলো ঘূর্ণিঝড় সহনীয়ভাবে নির্মাণের দাবি জানান তারা।

এদিকে, জুনেই ক্ষতিগ্রস্থ বনবিভাগের অফিস, আবাসিক ঘর ও পুকুর সংস্কারের কাজ শুরুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী। এরপর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে শুরু করা হবে পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত স্থাপনার কাজ, জানান এই বন কর্মকর্তা।

Advertisement
Advertisement