মঙ্গলবার   ১১ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৮ ১৪২৮ ||  ২৯ রমজান ১৪৪২

ACI Agri Business

আম্ফানে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি ১ লাখ কোটি টাকা; কেন্দ্রকে রাজ্য সরকার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:৫৫, ৬ জুন ২০২০

সুপার সাইক্লোন আম্ফানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লাখ আড়াই হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে রাজ্য সরকার। ঘুর্ণঝড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে শনিবার এ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়েছে তারা। 

আম্ফানে বিধ্বস্ত উত্তর-দক্ষিণ ২৪ পরগনা পরিদর্শন করতে দুই দিনের সফরে যায় ভারতের কেন্দ্রীয় আন্তঃমন্ত্রকের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সফর শেষে শনিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের সচিবালয় নবান্নে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দেখা করেন তারা। আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সেই  বৈঠকে কেন্দ্রীয় দলের কাছে প্রায় ১ লাখ আড়াই হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির এই হিসাব তুলে ধরা হয়।

আম্ফানের পরপরই আকাশপথে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । সেই সময় তিনি রাজ্যের জন্য ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেন।

শুরু থেকেই রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, আম্ফানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে দুই ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা। নবান্নের তরফ থেকে  ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় খুবই সামান্য। এরপরই কেন্দ্রীয় দল আসে রাজ্যে। সাত সদস্যের আন্তঃমন্ত্রক ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব অনুজ শর্মাসহ কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের পরিচালক নরেন্দ্র কুমার। এছাড়াও দলে মৎস্য চাষ দফতর, শক্তি মন্ত্রক এবং পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আম্ফানে রাজ্যের প্রায় ২৮ লাখ ৫৬ হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ৫শ’ ৬০ কোটি টাকা এবং কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ ১৫ হাজার ৮শ’ ৬০ কোটি টাকা।  ১৭ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান, মুগ, তিল, পাট, বাদাম, আখ, ভুট্টা এবং তুলোর চাষ নষ্ট হয়েছে। পানের বরোজ, আম-লিচুর বাগান এবং ফসল নষ্ট হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ৫শ’ ৫৬ হেক্টর জমিতে। যার ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৬ হাজার ৫শ’ ৮১ কোটি টাকার। মৎস্যজীবীদের প্রায় ৮ হাজার মাছ ধরার নৌকো ধ্বংস হয়েছে এছাড়াও নষ্ট হয়েছে তাঁদের ১ লাখ ৪৮ হাজার কুঁড়ে ঘর। ওই ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি দলের কাছে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যে প্রায় ২১ লাখ ২২ হাজার গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৬শ’ ৪০টি স্কুল এবং ৩শ’ ১টি কলেজসহ ১২ হাজার ৬শ’ ৭৮টি আইসিডিএস শিক্ষাকেন্দ্র। নদী বাঁধ ভেঙেছে প্রায় ২শ’৪৫ কিলোমিটার এবং প্রায় ৪ কিলোমিটার সমুদ্র বাঁধ।

রাজ্যের প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টর জমির বনভূমি ধ্বংস হয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়ে, যার অধিকাংশই সুন্দরবন। শুধু গ্রাম নয়, আম্ফানের তাণ্ডবে শহরের রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, ভূগর্ভস্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থা,পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সব মিলিয়ে এই ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ ২ হাজার ৪শ’ ৪২ কোটি টাকার বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

Advertisement
Advertisement