মঙ্গলবার   ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ ||  অগ্রাহায়ণ ২৬ ১৪২৬ ||  ১২ রবিউস সানি ১৪৪১

আমি ধন্য কৃষিবিদ সেজন্য

কৃষিবিদ মুহম্মদ আশরাফুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২১:২২, ১৮ এপ্রিল ২০১৯

প্রতিটি মানুষের শিশুকাল থেকেই জীবনের লক্ষ্য থাকে, যা আমারও ছিল। আমার লক্ষ্য ছিল ইন্জিনিয়ার হব। এইচ এস সি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়ে সেই আকাঙ্খা আরো সুদৃঢ় হলো। আমি ১৯৭৯ সালের কথা বলছি। তখন সারা বাংলাদেশে সর্বমোট ৫০০ জনের বেশী প্রথম বিভাগে পাশ করে নাই। আমরা তখন রাজশাহীতে বসবাস করতাম। তাই প্রথম এবং একমাত্র লক্ষ্য ছিল রাজশাহী ইন্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হব (এখন যাকে রুয়েট বলে)। নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে মনবল তখন ১০০ ভাগ। তবে বাবার পরামর্শে একটি বিকল্প হাতে রাখতেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)-এর ভর্তি ফরম সংগ্রহ করেছিলাম পূবালী ব্যাংক থেকে।

আমার দুর্ভাগ্য (তখন তাই ভাবতাম) সে বছর রাজশাহী ইন্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে কোন ছাত্র ভর্তি করা হলো না। অনন্যোপায় হয়ে বাকৃবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। তখন সব অনুষদে আলাদা পরীক্ষা দিতে হতো। আমি প্রতিটাতেই কৃতকার্য হলে বড় ভাইদের পরামর্শে কৃষি অনুষদে ভর্তি হলাম।

ময়মনসিংহ যাবার পর আমি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতির প্রেমে পড়ে যাই। আমাদের ক্যাম্পাসটি ছিল আমার কাছে নৈসর্গিক, ঠিক যেন স্বপ্নের শান্তি নিকেতন। গান নিয়ে আমার এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে এর অসীম প্রভাব। পাঠ্য বিষয়ও ছিল বহুমাত্রিক, যা জ্ঞানের ভান্ডারকে ভীষণভাবে সমৃদ্ধ করেছে। সে সময় শিক্ষক, ছাত্রদের মধ্যে ছিল সত্যিকারেরর হৃদ্যতা। বন্ধু ও রুমমেটদের সাহচর্য ও মেনটরিং আমাকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে গেছে।

আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু-র প্রতি যিনি কৃষিবিদদের মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। আমার মত অনেকেই হয়ত কৃষিতে পড়তে যেত না, যদি না এটি মর্যাদাপূর্ণ একটি পেশা হত।

নিজের শিক্ষার সাথে মিলে যায় এমন চাকুরীই করতে চেয়েছি এবং করছি। আমি সৌভাগ্যবান এই ভেবে এদেশের আধিকাংশ মানুষ কৃষক,-আমি তাঁদের সেবায় নিয়োজিত । এদেশে সবচেয়ে সাফল্যজনক খাত হিসেবে কৃষিকে বিবেচনা করা হয়। এত কম জায়গায় এবং সবচেয়ে ঘনবসতি নিয়ে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ- যা বিশ্বের বিষ্ময়। আমিও তো এর একজন কারিগর !

পেশাগত কারণে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেয়ে, দেশের সহজ সরল কৃষকদের সাথে মিশে, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনদর্শন নির্ধারণ করেছি। যেখানে সৃষ্টি হয়েছে আমার আবেগ ও অনুভুতি, অনুপ্রেরণা পেয়েছি মানবিক হবার । জানি না কৃষি বিজ্ঞান না পড়ে অন্য কোন জড় বিষয় অধ্যয়ন করলে বা জীবিকা হিসেবে নিলে আমি এমন মানুষিকতার হতে পারতাম কিনা। সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা, তিনি আমার জন্য সঠিক স্থান নির্ধারণ করে রেখেছিলেন।

তাই আমি ধন্য, কষিবিদ হয়েছি সেজন্য।

লেখক: কনসালট্যান্ট, কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামাড়বাড়ি, ঢাকা।