মঙ্গলবার   ২২ অক্টোবর ২০১৯ ||  কার্তিক ৬ ১৪২৬ ||  ২২ সফর ১৪৪১

অনুমোদন পেলো ব্রি ধান ২৮ এবং ২৯ এর চেয়ে উন্নত দুই জাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:২৬, ১২ অক্টোবর ২০১৮

অনুমোদন পেলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বোরো মৌসুমের জন্য ধানের নতুন দুটি জাত ব্রি ধান ৮৮ এবং ব্রি ধান ৮৯। মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় নতুন উদ্ভাবিত জাত দু’টির অনুমোদন দেয়া হয়। 

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে  সভায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর এবং বীজ বোর্ড ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞানীরা জানান, ব্রি ধান-৮৮ টিস্যু কালচার পদ্ধতিত উদ্ভাবিত একটি জাত। যা বোরো মৌসুমে সবচে জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান-২৮ এর প্রতিস্থাপক হতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। 

ধানটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বলেন, ব্রি ধান ৮৮ এর জীবনকাল ব্রি ধান২৮’র মতই এবং এটি হালকা ঝড়-বৃষ্টিতে ঝরে পড়বে না।  ফলন হবে ৬ থেকে ৭ টন। এই চালের ভাত হবে ঝরঝরে। নতুন জাত হওয়ায় এতে রোগ-বালাইয়ের আক্রমণও কম হবে বলে জানান বিজ্ঞানীরা। 

ব্রি ধান ২৮’র সাথে এর পার্থক্য হচ্ছে ব্রি ধান ২৮ এর বীজ পাতা হেলে গেলেও ব্রি-৮৮’র ক্ষেত্রে পাতা খাড়া থাকবে। ধান পাকার পরও গাছ সোজা থাকায় রিপার মেশিন ব্যবহার করা যাবে। যে কারণে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, হাওর অঞ্চলে নতুন এ জাতটি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।  

অন্যদিকে, ব্রি ধান ৮৯ বন্য প্রজাতির একটি ধানের সঙ্গে সঙ্করায়নের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এটি বোরো চাষের একক অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠার ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। জাতটি একই মৌসুমের ব্রি ধান ২৯’র স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। নতুন জাতটির ফলন হবে প্রচলিত ব্রি ধান ২৯’র চেয়ে এক টন বেশি। গড়ে যার ফলন হবে ৮ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে জাতটি ৯.৭ টন পর্যন্ত ফলন দিতেও সক্ষম। জাতটির জীবনকাল ১৫৪ থেকে ১৫৮ দিন, যা ব্রি-২৯’র চেয়ে ৩ থেকে ৫ দিন কম। 

বছর তিনেক ধরে বোরো মৌসুমে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণের বোরো ধান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে চাষী ও গবেষকদের। উদ্ভিদ প্রজননবিদরা বলেন, মূলত একটি জাত দশ বছর পর্যন্ত চাষ করার পর তার প্রতিস্থাপন দরকার হয়। সে হিসেবে ব্রি ধান এবং ব্রি ধান ২৯ আরো এক দশক আগেই প্রতিস্থাপন করার দরকার ছিলো। কারণ প্রায় দুই যুগ আগে জাত দুটি উদ্ভাবন করা হয়। 

বর্তমানে বোরো মৌসুমে ৪১ ভাগ জমিতে ব্রি ধান ২৮ এবং ২৪ ভাগ জমিতে ব্রি ধান ২৯ আবাদ হচ্ছে। অর্থাৎ মোট বোরো চাষের ৬৫ ভাগ দখল করে আছে এ দুটি জাত।